
দিনাজপুর শহরে শিক্ষার আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে ১৯২৭ সালের ১লা জানুয়ারি কিছু সংখ্যক বিদ্যানুরাগী মানুষের প্রচেষ্টায় শ্রী শ্রী সারদেশ্বরী বিদ্যা মন্দির নামের এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় ১৯২৭ সালে বিদ্যালয়ের সম্পাদক শ্রীযুক্ত ফণীশ চন্দ্র সেন গুপ্ত মহাশয়ের মা শ্রীযুক্তা সুধাংশু বালা দেবী মাত্র ১৭ জন বালক-বালিকা নিয়ে তাঁর নিজ বাসভবনে এর প্রথম কাজ শুরু করেন। পরে ইহা শ্রীযুক্ত সুখচাঁদ দাস মজুমদারের কালিতলার বাড়িতে স্থানান্তরিত করা হয়। ডাক্তার ফণীশ চন্দ্র সেন গুপ্তের একান্তিক চেষ্টায় ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ১৯৩২ সালে উচ্চ প্রাইমারী পর্যন্ত সরকারি অনুমোদন লাভ করে।
বিদ্যালয়টি ১৯৩৩ সালের মধ্যে ইংরেজি পর্যন্ত উন্নীত করা হয়। বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে ধর্মনীতি, স্বাস্থ্য পালন, রন্ধন ও নানা রকম গৃহশিল্পাদি বিষয়েও শিক্ষা দান করা হতো। শ্রী শ্রী সারদেশ্বরী বিদ্যা মন্দির নামের এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত অবৈতনিক ছিল। কিন্তু আর্থিক অসুবিধার কারণে ১৯৩৬ সাল হতে প্রতি শ্রেণির জন্য সামান্য মাসিক বেতন ধার্য করা হয়। ১৯৩৬ সালে সম্পাদক শ্রী ফণীশ চন্দ্র সেন গুপ্ত ও স্থানীয় একাধিক মহৎ ব্যক্তির প্রচেষ্টায় ও আর্থিক অনুদানে বিদ্যালয়ের নিজস্ব গৃহ নির্মাণ করা হয়। সে সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংখ্যা ছিল ৮ জন। শিক্ষকগণ নামমাত্র পারিশ্রমিকে কাজ করতেন।
এছাড়াও স্থানীয় জমিদার শ্রীযুক্ত কেদার নাথ সেন মহাশয় বিনা পারিশ্রমিকে ১৯৩২ হতে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত নিয়মিতভাবে শিক্ষকতার কাজ করেছেন। কিছুকাল শ্রীযুক্ত ক্ষিতীন্দ্র মোহন সেন ও শ্রীমতি দারিকানাথ দাস গুপ্ত বিনা পারিশ্রমিকে শিক্ষকতার কাজ করেছেন। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নের উদ্যোগী গণের মধ্যে আরও যাদের নাম জানা যায় তাঁরা হলেন শ্রী সারদাকান্ত রায়, শ্রী কেদার নাথ সেন প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ। প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পর ১৯৪২ সালে প্রতিষ্ঠাতা কমিটি রামকৃষ্ণ মিশনকে বিদ্যালয়ের সকল দায়-দায়িত্ব অর্পণ করেন। তখন বিদ্যালয়ের নাম করা হয় রামকৃষ্ণ মিশন সারদেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়।
১৯৫৮ সালে রামকৃষ্ণ মিশন স্থানীয় অন্য কমিটির কাছে বিদ্যালয়ের সকল দায়-দায়িত্ব অর্পণ করেন। তখন বিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলেন স্থানীয় মহকুমা প্রশাসক (এস.ডি.ও) এবং সম্পাদক ছিলেন শ্রী সুরেশ চন্দ্র সেন গুপ্ত (উকিল)। তখন থেকে বিদ্যালয়ের নাম হয় সারদেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। উল্লেখ্য যে, বিদ্যালয়টি ১৯৫১ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। পরবর্তীতে যারা বিদ্যালয়ের জমি দান করেন তাঁরা হলেন আলিম উদ্দিন আহমদ শেখ মোহাম্মদ ও তজির উদ্দিন মোহাম্মদ প্রমুখ ব্যক্তিগণ। পরবর্তীতে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নীতিমালা হিসেবে এখন পর্যন্ত চলমান রয়েছে।
একবিংশ শতাব্দীর দ্বারপ্রান্তে দাড়িয়ে যুগোপযোগী আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মানের লক্ষ্যে প্রধান শিক্ষক হিসাবে আমি সকলের সহযোগিতায় এ প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যেতে চাই, শিক্ষার্থীদেরকে তৈরি করতে চাই আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন, সামাজিক ও দায়িত্ববান। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এই লক্ষে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যেন পরিবার তথা সমাজ ও দেশের একজন আগামী দিনের কর্ণধার হিসাবে অগ্রনী ভূমিকা রাখতে পারে সেজন্য সাধারন শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সা্ংস্কৃতিক ও নৈতিক শিক্ষা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টিতে প্রতিষ্ঠানটি আগামিতে অগ্রনী ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি এবং একই সাথে সকলের সহযোগীতা কামনা করছি।।
প্রধান শিক্ষক
সারদেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় দিনাজপুর।
এই বিদ্যালয়টি দিনাজপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি প্রাচীন প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানসহ বর্তমান সরকারের ভিশন অর্জনের সাক্ষ্য হিসাবে অত্র বিদ্যালয়টিকে আমি সেই লক্ষ্যে পৌছাতে চাই, সভাপতি হিসাবে এইটি আমার প্রত্যাশা।এ লক্ষ্যে বিদ্যালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যাক্তিবর্গের সহযোগিতা কামনা করছি। একই সাথে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলীতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আদর্শ নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে এ প্রতিষ্ঠান হোক সকলের অনুকরণীয়- এটিই আমার দৃঢ় প্রত্যয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)